আমরা     সংবাদ

সফলদের স্বপ্নগাথা

মানবসেবা করতে হলে বিত্তবান হতে হয় না

রিয়ানা | ১৯ মার্চ ২০১৭, ০২:০৬  

বয়স মাত্র ২৯। এ বয়সেই আটটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জুটেছে মার্কিন গায়িকা রিয়ানার ঝুলিতে। ‘বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী তারকা’র তালিকায় আছে তাঁর নাম। সম্প্রতি মানবকল্যাণমূলক কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মানজনক পুরস্কার পেয়েছেন এই তারকা।

হার্ভার্ডে বক্তৃতা দেওয়ার ফাঁকে হাসিমুখে রিয়ানা। ছবি: সংগৃহীতঅবশেষে হার্ভার্ড থেকে পুরস্কার নেওয়ার সৌভাগ্য আমার হলো! ব্যাপারটা আমার সুদূর কল্পনাতেও ছিল না। কিন্তু সত্যি খুব ভালো লাগছে। ধন্যবাদ ড. কাউন্টার, ধন্যবাদ হার্ভার্ড ফাউন্ডেশন এবং ধন্যবাদ হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি, আমাকে এত বড় সম্মান দেওয়ার জন্য। স্বীকৃতির প্রত্যাশায় যে কাজ আমি করিনি, সে কাজের জন্য এত বড় পুরস্কার পেয়ে আমি আপ্লুত।

আমার যখন পাঁচ কি ছয় বছর বয়স, তখন টিভিতে একটা বিজ্ঞাপন দেখতাম। আমার চেনা-জানা পৃথিবীটার বাইরেও যে রোগে-শোকে ভোগা বহু শিশু আছে, এই বিজ্ঞাপন দেখেই জেনেছিলাম। বিজ্ঞাপনটির ভাষা অনেকটা এ রকম, ‘২৫ সেন্ট দান করুন, একটি শিশুর জীবন বাঁচান।’ ছোট্ট আমি তখন একা একা বসে ভাবতাম, আফ্রিকার সব অসুস্থ শিশুকে বাঁচাতে হলে কতগুলো ২৫ সেন্ট জমা করতে হবে? ভাবতাম আমি যখন বড় হব, যখন আমার অনেক টাকা হবে, তখন আমি পৃথিবীর সব শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করব। তখনো অবশ্য জানতাম না, বয়স কুড়ি হওয়ার আগেই এত টাকা উপার্জন করার সুযোগ আমার হবে।

১৭ বছর বয়সে আমেরিকায় আমার ক্যারিয়ারের শুরু। ১৮ বছর বয়সে আমি একটা দাতব্য প্রতিষ্ঠান চালু করি। এর আগে অবশ্য বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছি, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, সাহায্য করেছি।

ছয় বছর বয়সী জ্যাসমিনা অ্যানিমার মৃত্যু আমার জীবনে একটা বড় প্রভাব ফেলেছে। ২০১০ সালে লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ছোট্ট মেয়েটা মারা যায়। কিন্তু তার গল্প আমার মতো অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবীকে অনুপ্রাণিত করেছে। একইভাবে ২০১২ সালে আমার দাদি ক্লারা ব্র্যাথওয়াইটের মৃত্যু আমার জীবনে একটা বড় ধাক্কা ছিল। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে দাদি হেরে গেছেন। কিন্তু তাঁর পরাজয় আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আমি ক্লারা লিওনেল ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছি।

আমরা সবাই মানুষ। আর মানুষ মাত্রই কেবল একটা সুযোগ চায়। বাঁচার সুযোগ, শিক্ষার সুযোগ, ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ। ক্লারা লিওনেল ফাউন্ডেশনে আমাদের লক্ষ্য এটাই, যত বেশি সম্ভব মানুষকে একটা সুযোগ করে দেওয়া।

এই ঘরভর্তি চমৎকার মানুষগুলোর ওপর একবার চোখ বুলিয়ে আমি কী দেখতে পাচ্ছি জানো? সম্ভাবনা, আশা, ভবিষ্যৎ! আমি জানি তোমাদের প্রত্যেকের কাউকে না কাউকে সাহায্য করার সুযোগ আছে। মানুষের ভালোর জন্য কাজ করো, অন্তত একজনের জন্য হলেও। তবে বিনিময়ে কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা রেখো না। আমার কাছে এটাই হলো মানবতা।

লোকে ব্যাপারটাকে খুব কঠিন করে ভাবে। আসলে তা নয়। আমি চাই, একটা ছোট মেয়ে যখন আমার ছেলেবেলায় দেখা সেই বিজ্ঞাপনটা দেখবে, সে যেন এটা বিশ্বাস করে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে হলে ধনী হতে হয় না। হ্যাঁ। তোমার অনেক টাকা থাকতে হবে তা নয়, তোমাকে বিখ্যাত হতে হবে তা নয়, এমনকি তোমাকে কলেজ-স্নাতক হতে হবে তা-ও নয়। ইচ্ছে থাকলেই তুমি মানুষের জন্য কাজ করতে পারো।

অবশ্য আমার ইচ্ছে ছিল, তোমাদের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ব। বিশেষ করে আজ তোমাদের দেখে সেই আকাঙ্ক্ষাটা আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

তুমি কাকে সাহায্য করবে? শুরু হতে পারে তোমার একজন প্রতিবেশীকে দিয়ে। ক্লাসে তোমার ঠিক পাশে বসা সহপাঠীকে সাহায্য করো, তোমার এলাকার একটা শিশুকে সাহায্য করো। তোমার সাধ্যের মধ্যে যা আছে, তা-ই করো। আজ আমাকে কথা দাও, জীবনে অন্তত এমন একটা ভালো কাজ করবে যা তোমার হৃদয় স্পর্শ করবে। দাদি সব সময় বলতেন, যদি তোমার কাছে মাত্র এক ডলারও থাকে, সেটারও অনেক ভাগীদার আছে।

ধন্যবাদ বন্ধুরা।

ইংরেজি থেকে অনুবাদ: মো. সাইফুল্লাহ

সূত্র: এলি ডট কম

পাঠকের মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন