রস+আলো     সংবাদ

চলতি রস

রস+আলো ফুড ব্যাংক

২০ মার্চ ২০১৭, ০০:৩৮  

সামাজিক যোগাযোগের ফেসবুকে আছে নতুন রেস্টুরেন্ট বা নতুন রেসিপির খাবারের রিভিউ লেখার একাধিক গ্রুপ। বিচিত্র সব খাবার খেয়ে ভালো-মন্দ লেখেন ভোজনরসিকেরা। মূল ধারার এই খাবারগুলো ছাড়াও জীবনে আমরা অনেক খাবার খাই। তাহলে সেই খাবারগুলোর রিভিউ কেন লেখা হয় না? তাই সেটাই লিখলেন রাফি আদনান, চেখে দেখুন।
.বসের বকা
অনেক টেস্টি, ইয়াম্মি একটি খাবার। চাকরি পাওয়ার পর এটাই প্রথম নতুন কোনো খাবার, যেটা চেখে দেখলাম। জায়গা আর পরিবেশটাও ছিল বলার মতো। তবে বসার চেয়ারটা একটু শক্ত ছিল, কিঞ্চিৎ নরম আশা করেছিলাম। এসি রুম, গ্লাসের পাশে সুসজ্জিত রঙিন পর্দা টানানো। খারাপ লাগার কোনো কারণ নেই। আপনারাও টেস্ট নিয়ে দেখতে পারেন। দাম সম্পর্কে কিছু বলার নেই। দাম হিসেবে দিতে হয়েছে টানা দুদিন অফিসে দেরি করে আসা। সার্ভিসটাও বেশ লেগেছে! একটানা ঝাড়ির ওপরে রেখেছিলেন।
রেটিং
টেস্ট: ১০/১০
প্রাইস: ১০/১০
এনভায়রনমেন্ট: ৯/১০
সার্ভিস: ১০/১০

.রিটেক
ভার্সিটির প্রতি সেমিস্টারে অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার রিটেক। বিভিন্ন ফ্লেভার ও সাইজের রিটেক মাঝেমধ্যে বদ হজমের উদ্রেক করলেও শরীরের পক্ষে উপকারী। সার্ভিস অতুলনীয় হলেও আরেকটু ভালো করা উচিত। একই সারিতে সবাইকে বসিয়ে খুব সুন্দরভাবে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র সরবরাহ করার পর খুব নিরিবিলি পরিবেশে রিটেক খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়। দাম হিসেবে কোর্স ফির পুরোটাই দিতে হয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও পরিবেশটা আরেকটু নিরাপদ হতে পারত। কিছু খাদ্য সবার সামনে খেতে লজ্জা লাগে তো!
রেটিং
টেস্ট: ১০/১০
প্রাইস:১০/১০
এনভায়রনমেন্ট: ৮/১০
সার্ভিস: ৯/১০

.ছ্যাঁকা
মিষ্টি এই খাবারটা জীবনে নতুন এক অভিজ্ঞতার জন্ম দেবে। ছ্যাঁকা খেলে একটু তিক্ত অভিজ্ঞতারও জন্ম হতে পারে। খাওয়ার পর অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় জর্জরিত হতে পারেন। তাই যাঁরা খাবেন, বুঝেশুনে খাবেন। সার্ভিসটা অসাধারণ। বেশ কদিন দুষ্টু-মিষ্টি করে আপনার সঙ্গে সময় কাটিয়ে দেবে। তারপর সুযোগ বুঝে একদিন আপনাকে এই সুস্বাদু খাবারটি খাইয়ে দেওয়া হবে। প্লেস ও এনভায়রনমেন্ট নিয়ে বলার কিছু নেই। মুঠোফোন, ফেসবুক, হোয়্যাটসঅ্যাপ বা সামনাসামনিও আপনাকে ছ্যাঁকা খাওয়াতে পারে। মূল্যটা একটু বেশি নিয়ে নেয় মাঝেমধ্যে!
রেটিং
টেস্ট: ৯/১০
প্রাইস: ৮.৫/১০
এনভায়রনমেন্ট: ৯/১০
সার্ভিস: ১০/১০

.ঘুষ
ঐতিহ্যবাহী এই খাবারটি সবার জন্য নয়। হর্তাকর্তা-টাইপ ব্যক্তিবিশেষের জন্য বেশ উপাদেয় একটি খাবার। স্থান-কাল-পাত্রবিশেষে কেউ কেউ নিয়মিত খায় আবার কেউ কেউ দিনে একাধিকবারও খায়। সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াযুক্ত এই খাবার মাঝেমধ্যে দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাই চোখ-কান খোলা রেখে খাবেন। সাধারণত রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে টেবিলের নিচ পর্যন্ত যেকোনো জায়গায় খাওয়া যায়, তাই প্লেসের নিরাপত্তা কম। সার্ভিস অনন্য-অসাধারণ। দাম হিসেবে আপনাকে বড় কোনো ফাইল সাইন করা থেকে শুরু করে যেকোনো আটকে থাকা কাজ করে দিতে হবে।
রেটিং
টেস্ট: ১০/১০ (খাদকের চতুরতার ওপর নির্ভর করে)
প্রাইস: ৭.৫/১০
এনভায়রনমেন্ট: ৬/১০
সার্ভিস: ৮/১০

.ক্রাশ
খাবার তালিকায় সর্বকালের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার ক্রাশ। এটা এমন এক খাবার, যেটা যখন-তখন যেখানে-সেখানে খাওয়া যায়। কিছু মানুষ তো ক্রাশ খাওয়া নিয়ে এতই মেতে ওঠেন যে তারা পানির চেয়ে ক্রাশই বেশি খান। জনপ্রিয়তা দেখেই বোঝা যায় এই খাবার খেতে মূল্য, পরিবেশ, সার্ভিস কিছুই তেমন একটা দেখা লাগে না।
রেটিং
টেস্ট: ১০/১০
প্রাইস: ১০/১০
এনভায়রনমেন্ট: ১০/১০
সার্ভিস: ১০/১০

.লোকাল বাসে চাপ
পছন্দের খাবারের তালিকায় ওপরের দিকে আছে এই খাবার। লোকাল বাসের নিয়মিত যাত্রী হিসেবে আমি প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা নাশতা করি মানুষের চাপ খেয়ে। ঝুলে ঝুলে যাওয়া-আসা করার সময় আমার সামনে ও পেছনে দুজন দুদিক থেকে আমাকে চাপ খাওয়াতে থাকেন। অতুলনীয় এ খাবারের দামও খুব অল্প। শুধু বাস ভাড়াতেই এই খাবারটা পাবেন আপনি। মাঝেমধ্যে ‘স্টুডেন্ট’ বলে ‘হাফ’ ভাড়াতেও স্বাদ পেতে পারেন এমন অনন্যসাধারণ খাবারের। পরিবেশের কথা আর না-ইবা বললাম। একা বা বন্ধুরা মিলে খাওয়ার জন্য অতুলনীয়।
সতর্কতা: কখনো প্রেমিকা নিয়ে এই খাবার খেতে যাবেন না, পরদিন আপনার ব্রেকআপ হয়ে যেতে পারে!
রেটিং
টেস্ট: ৯/১০
প্রাইস: ১০/১০
এনভায়রনমেন্ট: ১০/১০
সার্ভিস: ১০/১০

.পাম্প (বাতাস)
নিউমার্কেটের হকার্স থেকে শুরু করে প্যান্ট-শার্টের দোকানে ঢুকলে একদম ফ্রিতে এই খাবারের স্বাদ নিতে পারবেন। দাম হিসেবে আপনাকে তাদের একটি শার্ট বা প্যান্ট পরতে হবে। এরপরই ‘পাম্প’ বা বাতাস খেতে পারবেন অনায়াসে। ‘মামা, এই শার্টটায় আপনারে একদম শাহরুখ খানের মতো লাগতাছে’, ‘মামা, এই প্যান্টটা পুরা ফিট হইছে, আপনার যা ফিগার...’—এমন ‘পাম্প’ খেয়ে আপনি নিজেকে মনের অজান্তেই অনেক কিছু ভেবে বসবেন! সার্ভিস ও ব্যবহার অতুলনীয়।
রেটিং
টেস্ট: ৯/১০
প্রাইস: ৮.৫/১০
এনভায়রনমেন্ট: ৮/১০
সার্ভিস: ১০/১০

.বাঁশ
অত্যন্ত উপাদেয় এই খাবারটি আপনি খেতে পারেন বন্ধুমহল থেকে, পরিচিত বড় ভাই বা ছোট ভাই থেকে শুরু করে প্রায় সবার কাছ থেকেই। ভাগ্য খুব সুপ্রসন্ন হলে অনেক কাছের মানুষও খাওয়াতে পারে। রেসিপি নিয়ে কিছুই বলার নেই। সার্ভিসের ব্যাপারে একটা কথা, এই খাবার দেওয়ার আগে একবার সতর্ক করে দিলে বদহজম কম হতে পারে। দামটাও আরেকটু কম নেওয়া যায়।
রেটিং
টেস্ট: ১০/১০
প্রাইস: ৮.৫/১০
এনভায়রনমেন্ট: ৯/১০
সার্ভিস: ৯/১০

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন