রস+আলো     সংবাদ

যাপিত রস

না খেয়ে যাবে কোথায়!

২০ মার্চ ২০১৭, ০৯:৪৪  

রস+আলোর পাঠকদের যা ইচ্ছা গেলানো গেলেও শিশুদের খাবার গেলানো যুদ্ধজয়ের শামিল। মায়েদের কষ্ট আমরা বুঝি (কারণ, খাওয়া নিয়ে অনেক যন্ত্রণা দিয়েছি আমরা)। আর তাই বাবা না হতেই শিশুদের খাবার খাওয়ানোর যুগান্তকারী কয়েকটি পদ্ধতি বাতলে দিলেন শরীফ মজুমদার ও মোস্তফা মনোয়ার

.রানিং মেশিন
শিশুদের খাবার খাওয়ানোর সময় ছুটোছুটি করে। তাই তাদের সামনে খাবার নিয়ে যাওয়ার আগে বাসায় রানিং মেশিন আনুন। তারপর মুখে ভাত তুলে দেওয়ার আগে তাদের নামিয়ে দিন সেই মেশিনে। যতই দৌড়াদৌড়ি করুক সামনে আর এগোতে পারবে না। কিছুক্ষণ পর দেখা যাবে এমনিতেই দৌড়ানো বন্ধ করে দিয়েছে ক্লান্ত হয়ে। আর এই ফাঁকে তাদের মুখে তুলে দিন খাবার।

জুসের প্যাকেট
এ পদ্ধতিটায় কারচুপির আশ্রয় নিতেই হবে। তবে এটা তো নির্বাচন নয় যে কারচুপি করা যাবে না। ভালো কাজের জন্য এক-আধটু কারচুপি করা যেতেই পারে। যেমন শিশুরা দুধ খেতে চায় না কিন্তু জুস পেলে আনন্দে আটখান হয়ে যায়। তাই জুসের প্যাকেটে দুধ ভরে শিশুদের খাইয়ে দিতে পারেন।

টিভি বিনোদন
শিশুদের খাওয়াতে গেলে দেখা যায়, তারা মুখই হাঁ করে না। এদিকে দেশের সব ‘বিনোদন’ হাঁ করে গিলি আমরা। বাংলা সিনেমা থেকে শুরু সুলতান সুলেমান —সবকিছুই আমরা হাঁ করে গিলি। আর ভারতীয় সিরিয়াল? সেটার কথা বলাই বাহুল্য। অথচ ছোটরা এসবের ধারেকাছেও ঘেঁষে না। তাই এসব চালু করে দেখতে পারেন, শিশুরা হাঁ করবেই। সেই ফাঁকে তাদের মুখে তুলে দিন খাবার। তবে লক্ষ রাখতে হবে যিনি খাওয়াচ্ছেন তিনি নিজেই যেন মগ্ন হয়ে না যান। না হলে শিশুর মুখে না দিয়ে তিনি নিজেই সব সাবাড় করে ফেলবেন কিংবা মুখের পরিবর্তে শিশুর নাকে-চোখেই হয়তো লেপ্টে দেবেন। আর এত কিছুতেও কাজ না হলে কোনো টিভিতে টক-শো দেখান। কাজ না হলে পয়সা ফেরত। তবে নাটক দেখতে দিলে উল্টো কিছু হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

বিস্কুটদৌড়
শিশুরা সারাক্ষণই কোনো না কোনো খেলায় মেতে থাকে। কাজেই তাদের খাওয়ানোর বেলায়ও বিস্কুটদৌড় স্টাইলে ‘দুধ-কলা দৌড়’-টাইপ কিছু সৃজনশীল এবং শিশুবান্ধব ‘হোমমেড’ খেলা উদ্ভাবন করতে পারেন। শিশুদের উৎসাহিত করার জন্য বড়রাও এসব খেলায় অংশ নিন।

স্পট ফিক্সিং
একাধিক শিশু থাকলে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যাবে। ক্লাসরুমে শিক্ষক একটা কঠিন প্রশ্ন করে ‘দেখি কে পারে’ বললে যেমন কয়েকজন লাফ দিয়ে ওঠে, ঠিক তেমনই খাবার হাতে নিয়ে ‘এই মজার খাবারটা কে খাবে’ বললেই সবাই ‘আমি আমি’ বলে সবাই হইহই করে উঠবে। তবে সবার ‘হইহই’ নিশ্চিত করার জন্য ‘ভিকটিম’ ছাড়া অন্যদের সঙ্গে আগেই কিংবা স্পটে চোখ টিপে ফিক্সিং করে নিতে হবে।

কইয়ের তেলে...
‘উত্তরে যেতে বললে দক্ষিণে যায়’-টাইপ শিশুদের ক্ষেত্রে এটা করা যায়। শিশুর হাতে কোনো একটা খাবার দিয়ে মুখ বাড়িয়ে দিয়ে আকুল হয়ে বলুন আপনাকে খাইয়ে দিতে। ব্যস। এ ছাড়া খাবার খেতে না চাইলেও যাবতীয় অখাদ্য চেখে দেখার ব্যাপারে শিশুদের আগ্রহ দেখার মতো। খাবারগুলোকে ওই ‘অখাদ্য’গুলোর মতো করে পরিবেশন করা যেতে পারে।

খাই খাই পরিবেশ
শিশুরা চারপাশের পরিবেশ দ্বারা খুব সহজেই প্রভাবিত হয়। তাই খাওয়ানোর জন্য শিশুর চারপাশে একটি আকর্ষণীয় ‘খাই খাই’ পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে। তবে বড়রা যাতে প্রভাবিত না হয় সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখুন। আর এই খাই খাই পরিবেশের জন্য ঘরের আশপাশে কোথাও নজর রাখুন। না পেলে পয়সা ফেরত!

 

পাঠকের মন্তব্য (১)

  • saiful alam

    saiful alam

    "তাই জুসের প্যাকেটে দুধ ভরে শিশুদের খাইয়ে দিতে পারেন।" !!! শিশুরা ছোট হতে পারে কিন্তু গর্দভ নয়।
     
মন্তব্য করতে লগইন করুন