পাঁচমিশালি     সংবাদ

বিচিত্র

‘আত্মপ্রেমী’ চক্রবাক

বিবিসি | ১৮ মার্চ ২০১৭, ০২:০৭  

পাখিটি নিজের প্রতিবিম্বের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিল। বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ কেইটলিন রেনর সেই ছবি তুললেন। আর অনলাইনে ছবিটা প্রকাশের আগে লিখলেন, ‘আমি ঠিক আছি। নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে খুব ভালোবাসি।’

রেনর ভেবেছিলেন, ছবিটা হয়তো লোকজনের নজর এড়িয়ে যাবে। কিন্তু হলো বিপরীত। ‘আত্মপ্রেমী’ পাখিটি ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের কাছে রীতিমতো তারকা বনে গিয়েছে!

অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে অবস্থিত কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে ওই চক্রবাক পাখি ক্যামেরাবন্দী হয়েছিল। ছবিটা ইন্টারনেটে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। টুইটারে এক ব্যক্তি লিখেছেন, ‘এটা নার্সিসিস্ট স্বভাবের পাখি। কেবল আমরাই, আত্মকেন্দ্রিক মানুষেরা, যে নিজেদের ছবি বা প্রতিবিম্বের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকি, তা নয়।’

ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল ছাত্র ফেসবুকে একটি পেজ খুলে ছবিটি নিয়ে আলোচনায় মেতেছেন। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্ক জিটা। ওয়াইল্ডকেয়ার অস্ট্রেলিয়া নামের একটি বন্য প্রাণী সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী রেনর অবশ্য মনে করেন, চক্রবাকের এমন আচরণ অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই পাখি মূলত নিশাচর। তাই নিজের প্রতিবিম্ব দেখে অভ্যস্ত নয়। তবে ওরা আগ্রাসী নয়। অন্য পাখির প্রতিবিম্ব দেখেও তারা একই রকম মুগ্ধ হয়।

জিটা বলেন, ‘পাখিটি একধরনের রূপক। আমাদের সবার জীবনে এমন মুহূর্ত এসেছে, যখন দীর্ঘক্ষণ ধরে আয়নার দিকে তাকিয়েছি। কেন এমন করছি, কী কারণে এমনটা ঘটছে?’

ব্রিসবেনের সিটি কাউন্সিলর রায়ান মারফি চলতি বছরের শুরুর দিকে চক্রবাকের একই ধরনের একটা ছবি অনলাইনে প্রকাশ করেছেন। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি এ রকম ঘটনায় অবাক হইনি। তবে পাখিটার মুগ্ধতার ধরন দেখে মানুষের চেয়ে বেশিই মনে হয়েছিল।’

মারফি আরও বললেন, সেই পাখি নাকি রাতে চলে গিয়ে পরদিন আবার ফিরে আসত। টানা এক মাস এ রকম করেছে। অনেকটা সেই ‘অফিস-কর্মীর’ মতো, যে কিনা এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করে আবার হাজিরা দিতে বাধ্য হয়! 

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন