পাঁচমিশালি     সংবাদ

পাঠক হাজির

নীরার জন্য

১৮ মার্চ ২০১৭, ০০:৩০  

অলংকরণ: মাসুক হেলালপত্রিকার রাশিফলে চোখ বোলাতেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল আবিরের। রাশিফলে লেখা ‘আকস্মিক অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা ও প্রেমের ঝোড়ো বাতাস মনে নাড়া দিতে পারে।’ রাশিফল জিনিসটাই আবিরের কাছে বরাবর হাস্যকর লাগে। পকেটে মাত্র ৬০ টাকা। মাসের এখনো তিন দিন বাকি। মাসের শেষে বাসা থেকে বাড়তি টাকাও নিয়েছে। তাই কোনোভাবেই অর্থপ্রাপ্তির সম্ভাবনা নেই। আর প্রেমের ব্যাপারটা খুবই হতাশাজনক।

কয়েক দিন হলো নীরার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছে। অবশ্য এখনো দেখা হয়নি। তবে তারা ‘তুই’ সম্বন্ধ করে কথা বলে। আবির ঠিক করেছে বছরের প্রথম দিন খুব ভোরে তারা দেখা করবে। একসঙ্গে প্রথম সূর্যোদয় দেখবে। হঠাৎ নীরার মেসেজ...

—‘কই তুই?’

—‘রুমে’

—‘আজ দেখা করবি। কাল তো সম্ভব হবে না, তোর পরশু পরীক্ষা।’

—‘আজই?’

—‘হ্যাঁ...কোথায় আসব তাড়াতাড়ি বল।’

—‘কোনো কফিশপে দেখা করি?’

—‘তোর সঙ্গে প্রথম দেখা হবে, সেখানে প্রকৃতি থাকবে না, সেটা কি হয়?’

—‘ঠিক আছে আমি আসছি, তারপর দুজনে পদ্মার পাড়ে যাব...’

—‘ঠিক আছে’

রিকশা চলছে ঝড়ের বেগে। নীরার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। বারবার গুচ্ছ চুল উড়ে এসে পড়ছে আবিরের মুখে। আবির টের পাচ্ছে আধভেজা চুলের মাতাল করা গন্ধ।

নীরবতা ভাঙে নীরা। সারা দিন কী কী করল একনাগাড়ে, একনিশ্বাসে বলতে থাকে। মেয়েটা অনেক গুছিয়ে কথা বলে। প্রথম দেখাতেই কারও প্রতি এতটা মুগ্ধতা নিয়ে কোনো দিন তাকায়নি আবির। মেয়েটার মধ্যে কী যেন আছে!

নদীর বাঁধ ধরে সরু রাস্তা। চারদিকে সুনসান নীরবতা। নির্জন রাস্তা ধরে নীরা আর আবির পাশাপাশি হাঁটছে। দুজনে খুবই নিশ্চুপ। আবির ভাবছে কী নিয়ে কথা বলবে। হঠাৎ নীরা বলে ওঠে, তোর কবিতা শুনব... রোমান্টিক কোনো কবিতা শুরু কর...

আবির কোনো রকম দ্বিধা না করে তার প্রিয় কবিতা আবৃত্তি শুরু করে,

‘মেঘবালিকা বলেছিল সঙ্গ দেবে...’

খুব মনোযোগ দিয়ে শুনছিল নীরা। আবির একমনে কবিতা আবৃত্তি করে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে এই কবিতা শোনানোর জন্য সে শত জনম ধরে অপেক্ষায় ছিল। যখন আবির এখানে প্রথম আসে, তখন তার খুব ইচ্ছা হয়েছিল প্রেমিকাকে নিয়ে এই রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কবিতা শোনাবে। এ কথা নীরা জানে না। ঠিক এই মুহূর্তে নীরার চোখের দিকে তাকাতে ইচ্ছা করছে আবিরের। তার মন বলছে ওই চোখে সে মেঘবালিকা খুঁজে পাবে...¯

আবির তাকায় না। সব ইচ্ছাকে প্রশ্রয় দিতে হয় না। কিছু ইচ্ছাকে ছেড়ে দিতে হয় তাদের নিজের মতো।

কামরুজ্জা মানসাকিব

আইবিএ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

পাঠকের মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন