পাঁচমিশালি     সংবাদ

বিচিত্র

‘ডাকাতে মাছি’র শিকার রহস্য

বিবিসি | ১১ মার্চ ২০১৭, ০৩:০৩  

আকারে চালের দানার চেয়ে মোটেই বড় নয়, তারপরও শিকার করার ধরন আর আক্রমণাত্মক বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা ‘ডাকাত’ নামে পরিচিত। বলা হচ্ছে ‘ডাকাতে মাছি’র কথা। উড়তে উড়তে নিমেষেই শিকার ধরে ফেলে এরা। কিন্তু কীভাবে কাজটা সম্পাদন করে, এত দিন তা রহস্য হয়ে ছিল। তবে বিজ্ঞানীদের একটি দল সম্প্রতি দাবি করেছে, ডাকাতে মাছির শিকার ধরার রহস্য তারা উন্মোচন করেছে।

গবেষক দলের সদস্য যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পালোমা গঞ্জালেজ-বেলিদো বলেন, তাঁরা মাছির হোলকোসেফালা প্রজাতির ওপর গবেষণা করেছেন।

গবেষণা প্রতিবেদনটি গত বৃহস্পতিবার কারেন্ট বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, ডাকাতে মাছি শিকার ধরার সময় ঠিক কী করে, তা ধরতে তাঁরা উচ্চক্ষমতার ক্যামেরা ব্যবহার করেছেন। তাঁরা দেখেছেন, শিকার ২৯ সেন্টিমিটারের মধ্যে চলে এলেই এই প্রজাতির মাছি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

পালোমা গঞ্জালেজ-বেলিদো বলেন, ‘শিকারি প্রাণীর কথা বিবেচনা করতে গেলে সাধারণত আমরা ধরে নিই, তার দৃষ্টিশক্তি প্রখর হবে এবং সে দ্রুতগতির হবে। কিন্তু শিকারি প্রাণীটি যদি ক্ষুদ্রকায় হয়, তার মস্তিষ্কের আকারও ছোট হওয়ার পাশাপাশি সংবেদনশীলতা অপেক্ষাকৃত কম হবে। এ কারণেই এই শিকারিদের (ডাকাতে মাছি) আচরণ সম্পর্কে আমরা জানতে চেয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, বিষয়টা ধরতে তাঁরা খোলা জায়গায় একটি ছোট স্টুডিও তৈরি করে ডাকাতে মাছির গতিবিধি ধারণ করেন। গবেষকেরা আবিষ্কার করেন, দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর থেকে শিকারকে দৃষ্টিক্ষেত্রের কেন্দ্রস্থলে রাখে এই মাছিরা।

পালোমা গঞ্জালেজ-বেলিদো ব্যাখ্যা করেন, মাছিগুলো শিকারের দিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের দিক পরিবর্তন করে। আর এ কাজ করতে নাবিকেরা পুরোনো যে দিক নির্ণয় পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন, মাছিগুলোও তা-ই করে থাকে। তিনি বলেন, ‘যদি আপনার দৃষ্টিক্ষেত্রের ভেতরে থাকা অন্য জাহাজটি নড়াচড়া না করে এবং তা ক্রমাগত কাছাকাছি হওয়ার পাশাপাশি বড় হতে থাকে, তাহলে ধরে নিতে হবে, আপনি সংঘর্ষের পথে রয়েছেন।’

হোলকোসেফালা প্রজাতির মাছির চোখ নিয়েও গবেষণা করেছে গবেষক দলটি। এতে দেখা গেছে, এদের অপেক্ষাকৃত বড় লেন্স আর চোখের কেন্দ্রে উচ্চ ঘনত্বের ছোট সেন্সরগুলো দূর থেকে শিকার দেখতে এবং লক্ষ্য ঠিক রাখতে সহায়তা করে। পালোমা গঞ্জালেজ-বেলিদোর মতে, ড্রাগন মাছির মতোই বড় ডাকাতে মাছির দৃষ্টিক্ষেত্র। আর এ কারণে চোখের পলকেই শিকার ধরে ফেলে এরা।

তবে শিকার দেখার পর থেকে ধরা পর্যন্ত ডাকাতে মাছির মস্তিষ্কে কী ঘটে, তা এখন পর্যন্ত জানতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। পালোমা গঞ্জালেজ-বেলিদো বলেছেন, এবার তাঁরা এ বিষয়ে গবেষণা করবেন।

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন