পাঁচমিশালি     সংবাদ

পাঠক হাজির

তোমার অপেক্ষায়

১১ মার্চ ২০১৭, ০১:৫১  

অলংকরণ: মাসুক হেলালএমনই এক ফাল্গুনে আমাদের গল্পটা শুরু হয়েছিল। অনেক ভয় নিয়ে সেদিন আমি ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলাম, কিছুটা দ্বিধান্বিত হয়ে লাজুক মুখে তুমি ‘আচ্ছা’ বলেছিলে। তারপর দুজনেই চুপ। সেদিন আসলে খুশির চোটে খানিকটা ভড়কে গিয়েছিলাম।
তোমার মনে পড়ে? তিতাস পাড়ে হাতে হাত ধরে হাঁটা ছিল আমাদের নিত্যদিনের রুটিন। শেষ বিকেলের আলোয় আমরা তখন গল্পস্রোতে সন্ধ্যা নামাতাম। পশ্চিমা আকাশটা যেন প্রতিদিন আমাদের গল্প দিয়ে সাজত। মাঠের কোণে সেই কৃষ্ণচূড়াগাছটার কথা মনে আছে? কৃষ্ণচূড়ার লালে আমরা আমাদের ভালোবাসার সার্থকতা খুঁজে নিতাম। কলেজের বাইরের ফুচকার কথা মনে পড়ে বেশ, একদিন ফুচকা মিস গেলে যেন তোমার মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যেত। তোমার মনে পড়ে? আমরা দুজনেই চশমা পরতাম দেখে বন্ধুরা মজা করে আমাদের নাম দিয়েছিল ‘চশমা দম্পতি’। হা হা হা, একসঙ্গে বৃষ্টিতে ভেজা, উদ্দেশ্যহীনভাবে রিকশায় ঘুরে বেড়ানো, রেললাইনের ওপর খালি পায়ে হাঁটা, রাতে ফোনে গান গাইয়ে তোমায় ঘুম পাড়ানো...। আর কত কী! খুব সুন্দর করেই কেটেছিল দুটি বছর। তুমি জানো? হঠাৎ যেদিন তুমি এসে ‘রাফিদ, আর যোগাযোগ কোরো না’ বলেই চলে গেলে, আমি তখনো যেমন বুঝতে পারিনি কী হচ্ছে, আজও বুঝতে পারি না। অনুভূতিটা সেই দিনের মতোই তাজা, প্রতিদিনই তোমার বলা শেষ বাক্যটি আমার কানে এখনো বাজে। আর আমার ভেতরের ‘আমি’টা সেদিনের পর থেকে একটু একটু করে হারিয়ে যেতে থাকে। অনেক চেষ্টা করেছি জান। অনেক চেষ্টা করেছি তোমার সঙ্গে যোগাযোগ করার, কিন্তু তুমি যোগাযোগের সব পথই বন্ধ করে দিয়েছিলে। অনেক ভেবেও বুঝে উঠতে পারিনি, কী এমন হয়েছিল? কী এমন করেছিলাম আমি। জানি না, আমার লেখাটা ছাপা হলে তোমার চোখে পড়বে কি না। যদি তুমি পড়ো, শুধু এটুকুই চাইব—শুধু একটিবার বলে যাও, কী হয়েছিল সেদিন?
চৌধুরী আরাফাত ইমরান
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন