মতামত     সংবাদ

তদন্ত কর্মকর্তার আচরণ অগ্রহণযোগ্য

তনু হত্যার তদন্ত

২১ মার্চ ২০১৭, ০০:৫৩  

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার এক বছর পার হলেও তদন্তকাজে কোনো অগ্রগতি না হওয়া সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতারই পরিচায়ক। একটি মেয়ে সুরক্ষিত সেনানিবাসের ভেতরে নিহত হলেন, আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘাতকদের খুঁজে পাবে না, এটি কোনোভাবেই মানা যায় না।
গত বছরের ২০ মার্চ তনু হত্যার পর সারা দেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিসেবীসহ সর্বস্তরের মানুষ তনু হত্যার বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিল। তখন সরকারের পক্ষ থেকে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গত এক বছরে মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর ও তিনবার তদন্ত কর্মকর্তা বদলালেও ফলাফল শূন্যই বলা যায়।
সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা জালালউদ্দিন আহমদ তদন্তকাজ না এগোনোর পক্ষে যে যুক্তি দিয়েছেন, তা-ও হাস্যকর। তাঁর দাবি, শীতকালীন মহড়ার কারণে তিন মাস তদন্তকাজে ধীরগতি ছিল। শীতকালীন মহড়ার কারণে একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার তদন্তকাজ থেমে থাকবে কেন? তনু হত্যার ঘটনায় শতাধিক সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। কতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যার কোনো সূত্র বের করতে পেরেছেন কি না?
প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তনুর মা আনোয়ারা বেগম ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, তদন্ত কর্মকর্তা তাঁদের চুপ থাকতে বলেছেন। টিভিতে তনুর ছবি না দেখাতে বলেছেন। একজন তদন্ত কর্মকর্তার এ কী ধরনের আচরণ? সন্তানহারা মা মেয়ে হত্যার বিচার চাইতে পারবেন না?
তদন্ত কর্মকর্তা যদি সত্যি সত্যি তাঁর কাজে আন্তরিক হতেন, তাহলে তনুর মা ও পরিবারের অভিযোগ এবং সন্দেহ আমলে নিয়েই তদন্তকাজ পরিচালনা করতেন। তাঁদের কথা শোনার মতো ঔদার্য দেখাতেন। একটি হত্যারহস্য উদ্ঘাটনের জন্য এক বছর কম সময় নয়। অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করাই তাঁদের কর্তব্য। সন্তানহারা মা–বাবাকে ভয় দেখানো নয়। এ ব্যাপারে দৃশ্যমান বা অদৃশ্যমান বাধা থাকলে সেটিও তাঁদের জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত।

পাঠকের মন্তব্য (১)

  • Mohammed Ruhel

    Mohammed Ruhel

    I want Judicial Public Investigation very soon .
     
মন্তব্য করতে লগইন করুন