মতামত     সংবাদ

সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলুন

আবার জঙ্গি তৎপরতা

২০ মার্চ ২০১৭, ০০:০৩  

গত বছরের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল এই সংগঠনটিই, যারা ইসলামিক স্টেট (আইএস) নামের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বহুজাতিক জঙ্গি সংগঠনের মতাদর্শ ও সন্ত্রাস-কৌশল অনুসরণ করে। ওই হামলার পর জঙ্গিবাদের ব্যাপারে সরকারের কঠোর অবস্থান গ্রহণ ও দেশব্যাপী ব্যাপক জঙ্গি দমন অভিযান শুরু হলে সংগঠনটির বেশ কিছু সদস্য নিহত হন। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকটি অভিযানে তামিম চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন নেতা নিহত ও গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে এমন একটা ধারণা জন্মে যে নব্য জেএমবির নেতৃত্ব ছত্রভঙ্গ ও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারপর আর কোনো জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্ট মহলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছিল বলেও খবর পাওয়া যায়।

কিন্তু সে রকম স্বস্তির অবকাশ যে বাস্তবে নেই, তা গত কয়েক দিনের কয়েকটি ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠল। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, শুক্রবার দুপুরে ঢাকার আশকোনায় র‌্যাব সদর দপ্তরের ফোর্সেস ব্যারাকে আত্মঘাতী হামলার ব্যর্থ চেষ্টা। র‌্যাবের মতো চৌকস বাহিনীর সদর দপ্তরে জঙ্গিদের হামলা চালানোর পরিকল্পনা স্পষ্টভাবেই ইঙ্গিত করছে যে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চাভিলাষী হয়ে উঠেছে এবং তাদের হুমকির বাইরে আর কোনো কিছুই থাকছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর বিচ্ছিন্নভাবে চোরাগোপ্তা হামলার চেষ্টা আগেও হয়েছে, কিন্তু কোনো বাহিনীর সদর দপ্তরকে লক্ষ্যবস্তু করা বাংলাদেশে এটাই প্রথম।

জঙ্গি দমন অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকা অবস্থায় কথিত নব্য জেএমবি বা অন্য জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর গোপন তৎপরতা কীভাবে ও কিসের জোরে চলতে পারছে, তা গভীরভাবে জানার চেষ্টা করা দরকার। জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন কখনোই পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তাদের জনবল সংকটও কখনো স্থায়ী হয়নি। এ দুটো বিষয়ের পেছনে কিছু বাস্তবিক প্রণোদনা
আছে; উগ্র, অসহিষ্ণু ও জবরদস্তিমূলক ধর্মীয় মতাদর্শের সঙ্গে রাজনীতির যোগ এবং তার প্রতি কিছুসংখ্যক তরুণ-যুবকের তীব্র আকর্ষণ অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কঠোর দমন-অভিযান,  গ্রেপ্তার-বিচার-শাস্তি প্রদান ইত্যাদি অবশ্যই আরও জোরদার করতে হবে; কিন্তু শুধু এভাবেই এ গভীর সমস্যার সমাধান মিলবে না। এ জন্য ব্যাপক ও গভীর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও জরুরি।

পাঠকের মন্তব্য (১)

  • abul fajol

    abul fajol

    কট্টর মতবাদ যেমন জঙ্গিবাদ উসকে দেয় তেমনি জঙ্গি দমনের নামে ইসলামী চিন্তা-চেতনা দমনও জঙ্গিবাদ উৎসাহিত করতে পারে।এদিকটা নিয়ে কেউই ভাবছেন না।
     
মন্তব্য করতে লগইন করুন