মতামত     সংবাদ

ক্ষমতার আশ্রয়ে অপরাধী লালনের ধারার অবসান চাই

যৌন নিপীড়কের ক্ষমতা!

২০ মার্চ ২০১৭, ০০:০৩  

তিনি সবুজবাগ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ক্ষমতাসীন দলে থাকার ক্ষমতা কি ধর্ষণ-নিপীড়নে সহায়ক হয়, নাকি যৌন নির্যাতকেরাই দুষ্কর্মের ঢাল হিসেবে রাজনৈতিক দলের প্রভাবকে ব্যবহার করেন? 

আশ্চর্যের বিষয় এই, এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে সারা রাত নির্যাতনের পর ফেলে যাওয়া হলো, কিন্তু এলাকার জনপ্রতিনিধি, সরকারি প্রশাসন এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতারা কিছুই করলেন না! তাঁদের এই নীরবতা আরও মারাত্মক হয়ে ওঠে, যখন দেখা যায় ধর্ষকেরা দলবল নিয়ে নির্যাতনের শিকার মেয়েটির পরিবারকে দুদিন ধরে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন। নির্যাতকেরা প্রকাশ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিলেন, পরিবারের কাউকে পেলেই খুন করার ঘোষণা দিলেন; অথচ সমাজ-রাজনীতি-প্রশাসন চেয়ে চেয়ে দেখল? দলে থাকা কেউ অপরাধ করলে গোটা দলকে দোষী করা যায় না, কিন্তু অভিযুক্ত অপরাধী যদি দলের পরিচয়ে জঘন্য অপরাধ করে যেতে থাকেন, তখন তাঁকে থামানো কিংবা তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা দলের জরুরি দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। ঢাকা ও মাদারীপুরের দুটি ঘটনায় সেই দায়িত্বশীলতা দেখা যায়নি। 

দুটি ঘটনাতেই পরিবারের লোকেরা সাহস করে থানায় মামলা করেছেন, এলাকাবাসী, প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের উচিত তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। পুলিশের সুষ্ঠু তদন্ত না হলে নির্যাতিত ব্যক্তিদের সুবিচার পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। এই দিকটি সম্পর্কে হুঁশিয়ার থাকা প্রয়োজন। মাদারীপুরের ঘটনায় অপরাধীরা সবাই গ্রেপ্তার না হলে পরিবারটির পক্ষে এলাকায় ফিরে নিরাপদে বাস করা এবং মেয়েটির শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে।

আমরা রাজনৈতিক ক্ষমতার আশ্রয়ে অপরাধী লালনের ধারার অবসান চাই।

পাঠকের মন্তব্য (১)

  • hidden

    কতিপয় লোকের এ হেন দৌরাত্ম্যে গড়পড়তা সমাজের মানুষের ধারণা জন্মে- আইন-আদালত-প্রশাসন আদতে নাগরিকের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যে না; প্রভাবশালীদের রক্ষার বর্ম। একটি সুস্থ্য সমাজ বির্নিমাণে এ অবস্থা ভয়াবহ হুমকি। সমগ্র সমাজের জনমানসে যদি নৈরাজ্যিক এই বোধ পাকাপোক্তভাবে প্রোথিত হয়ে যায় তাহলে সেখানে নানান চরমপন্থা মাথাচারা দিয়ে উঠবেই উঠবে। শতচেষ্টা করেও সেইসব চরমপন্থার গতিরোধ করা সম্ভব হবে না।
     
মন্তব্য করতে লগইন করুন