উত্তর আমেরিকা     সংবাদ

উৎসবমুখর পরিবেশে টরন্টোয় বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবস উদযাপন

সদেরা সুজন, কানাডা থেকে | ২০ মার্চ ২০১৭, ২০:৩০

.বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোয় জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিবস উদ্‌যাপন করল বাংলাদেশ হাইকমিশন।

এ উপলক্ষে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে টরন্টোর বাংলাদেশি অধ্যুষিত ড্যানফোর্থ অ্যাভিনিউর বাংলাদেশ সেন্টারে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ বছর ‘ক’ গ্রুপে (৪ বছর হতে ৮ বছরের শিশু) চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল-‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, বাংলাদেশের খুশির দিন’। আর ‘খ’ গ্রুপের (৯ বছর হতে ১৫ বছর) বিষয় ছিল ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু’। আর রচনা প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল-‘মহান নেতা বঙ্গবন্ধু’ (১৮ বছর পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত)।
.গ্রেটার টরন্টোর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫ জন শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। রঙের তুলিতে তারা অঙ্কিত করে প্রিয় নেতা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবুর রহমানকে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ আর্ট সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকার সদস্যরা। বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (পাসপোর্ট ও ভিসা) সাখাওয়াত হোসেন, প্রথম সচিব (কনস্যুলার) অপর্ণা রাণী পাল এবং কানাডা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানসহ কানাডা আওয়ামী লীগ ও অন্টারিও আওয়ামী লীগের নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। আরও ছিলেন বাংলাদেশ আর্ট সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট মাজহারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক নীল উৎপল দেবনাথসহ সোসাইটির সদস্যরা এবং শিশুদের অভিভাবকেরা। অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন বাংলাদেশ হাই কমিশনের প্রথম সচিব অপর্ণা রাণী পাল।
.চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী বক্তব্যে কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির পিতা এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ও তাঁর নির্দেশিত পথেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে পৃথিবীর মানচিত্রে। তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পানে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। তাই বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু এক ও অভিন্ন সূত্রে গাঁথা। তিনি বলেন, শিশুদের জন্য এই চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্দেশ্য হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শের সঙ্গে এ প্রজন্মের প্রবাসী শিশুদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাঁর মতো দেশপ্রেমিক মনন দিয়ে শিশুদের গড়ে তোলা।
.মিজানুর রহমান আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে যেমন আমরা সবাই আজ আনন্দিত, ঠিক তেমনি আমরা বেদনায় আক্রান্ত ও ক্ষুব্ধ এই কারণে যে কানাডাতেই তাঁর হত্যাকারী, খুনি নুর চৌধুরী অবস্থান করছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী নুর চৌধুরীর জন্য কানাডা কোনো সেফ হেভেন হতে পারে না। তিনি বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে বিচারের রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস কানাডায় কাজ করে চলেছে। তিনি এই খুনিকে দেশে ফেরত পাঠাতে কানাডার আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নাগরিকদের জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সম্প্রতি সাস্কাচুয়ান প্রদেশে সফরকালে সেখানকার প্রিমিয়ার (মুখ্যমন্ত্রী) ব্রাড ওয়ালের সঙ্গে এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, সাস্কাচুয়ানের প্রিমিয়ার ব্যাড ওয়াল এ খুনিকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তাঁর অনুরোধ কানাডার ফেডারেল সরকারের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বক্তব্যের পর শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কেক কেটে ও শিশুদের কেক খাইয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে সবাইকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও অতিথিরা। উৎসবমুখর পরিবেশে কেক খেয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকে শিশুরা।

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন