আন্তর্জাতিক     সংবাদ

নারদ নিয়ে সিবিআইকে তদন্তের আদেশ চ্যালেঞ্জের মুখে

কলকাতা প্রতিনিধি | ২০ মার্চ ২০১৭, ১৯:০৪

পশ্চিমবঙ্গের চাঞ্চল্যকর নারদ দুর্নীতিকাণ্ডে শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আজ সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেস ভারতের সুপ্রিম কোর্টে দুটি পৃথক আবেদন করেছে।

১৭ মার্চ কলকাতা হাইকোর্ট নারদ মামলার তদন্তভার তুলে দেন ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং তৃণমূল কংগ্রেস কলকাতা হাইকোর্টের আদেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দুটি পৃথক আবেদন করে। 

গত বছরের ১৪ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কদের অর্থ গ্রহণের এক চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফুটেজ ফাঁস করে দিল্লির নারদ নিউজ ডট কম নামের একটি ওয়েব পোর্টাল। পরে সেই ভিডিওটি কলকাতার রাজ্য বিজেপির কার্যালয়েও ফাঁস করে বিজেপি। এরপর এই নারদ দুর্নীতি মামলা নিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গ। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি ওঠে, এই মামলার তদন্ত করাতে হবে সিবিআই দিয়ে। এ নিয়ে তিনটি পৃথক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকার এই দুর্নীতিকাণ্ডে তাদের মন্ত্রী-সাংসদদের নাম থাকায় সিবিআই দিয়ে তদন্ত করাতে রাজি ছিল না। অবশেষে ১৭ মার্চ কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষে এক নির্দেশে জানিয়ে দেন নারদ মামলার তদন্ত করবে সিবিআই। হাইকোর্টের নির্দেশের পর সিবিআই কর্মকর্তারা নারদ মামলার তদন্তও শুরু করেন।

তদন্তের একপর্যায়ে নারদ নিউজ ডট কমের কর্ণধার ম্যাথু স্যামুয়েলের কাছে সিবিআই জানতে চায়, এই কেলেঙ্কারি ফাঁস করতে যে অর্থ খরচ হয়েছিল, সেই অর্থের জোগান দিয়েছিল কে? ম্যাথু স্যামুয়েল সিবিআইয়ের প্রশ্নের জবাবে জানিয়ে দেন, অর্থের জোগান দিয়েছিল তহেলকা ম্যানেজমেন্ট। পুরো অর্থ দিয়েছিল তারা। আর তা দেওয়া হয়েছিল কলকাতায় আল কেমিস্ট নামের একটি সংস্থার মাধ্যমে। সেই সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন তহেলকার কর্ণধার তৃণমূল সাংসদ কেডি সিং।

এত দিন পর স্যামুয়েল অর্থ জোগানের গোমর ফাঁস করে দেওয়ায় নতুন করে অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূল।

ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-মন্ত্রীদের ঘরে ঘরে, হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে অর্থ। যাঁদের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ এসেছিল, তাঁরা হলেন মুকুল রায় (সাবেক রেলমন্ত্রী, ২০ লাখ রুপি), সুব্রত মুখোপাধ্যায় (পঞ্চায়েত মন্ত্রী, ৫ লাখ), সুলতান আহমেদ (তৃণমূল সাংসদ, ৫ লাখ), সৌগত রায় (তৃণমূল সাংসদ, ৫ লাখ), শুভেন্দু অধিকারী (তৃণমূল সাংসদ, ৫ লাখ), কাকলি ঘোষ দস্তিদার (তৃণমূল সাংসদ, ৫ লাখ), প্রসূন ব্যানার্জি (তৃণমূল সাংসদ, ৫ লাখ), শোভন চ্যাটার্জি (কলকাতার মেয়র, ৪ লাখ), মদন মিত্র (সাবেক পরিবহনমন্ত্রী, ৫ লাখ), ইকবাল আহমেদ (তৃণমূল সাংসদ, ৫ লাখ), ফিরহাদ হাকিম (পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী, ৫ লাখ) এবং মহম্মদ আহমেদ মির্জা (সিনিয়র পুলিশ অফিসার, ৫ লাখ রুপি)।

আজ কলকাতা পৌর করপোরেশনের বাজেট অধিবেশন নারদকাণ্ড নিয়ে উত্তাল হয়ে পড়ে। বিরোধী কাউন্সিলররা দাবি তোলেন, নারদের সঙ্গে যুক্ত মেয়রসহ অন্যদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি আজ সল্টলেকের সিবিআই অফিসের সামনে সারদা ও নারদ কাণ্ডে জড়িত নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বাম দলের নেতা কর্মীরা অবস্থান ধর্মঘটে অংশ নেন।

এ মামলার সঙ্গে যুক্ত ভিডিও ফুটেজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য হাইকোর্ট এর আগে ভারতের চণ্ডীগড়ের ফরেনসিক ল্যাবরেটরি থেকে এ-সংক্রান্ত রিপোর্টও পান। তাতেও বলা হয়, ভিডিও ফুটেজের ছবি ভুয়া বা জাল নয়। আসল ছবি।

পাঠকের মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন