আন্তর্জাতিক     সংবাদ

ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত যেভাবে সামলাবে শিশুরা

অনলাইন ডেস্ক | ২০ মার্চ ২০১৭, ১৯:১১

ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত থেকে রক্ষা পেতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মহড়া দেওয়া হচ্ছে শিশুদের। ছবি: রয়টার্সজাপান সাগরের উপকূলবর্তী ছোট্ট শহর ওগা। সেখানকার একটি প্রাথমিক স্কুলের মাঠে ‘ডাক-ডাক গুজ’ খেলছিল শিশুরা। হঠাৎ উচ্চ শব্দে বেজে উঠল সাইরেন। লাউডস্পিকারে ঘোষণা আসে, একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা খেলার মাঠ থেকে দৌড়ে স্কুলের ব্যায়ামাগারে ঢোকে। সেখানে বয়সে বড় কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী তাদের লাইন ধরে কাঠের মেঝেতে বসিয়ে দেয়। সবাই অপেক্ষায় পরের নির্দেশনার জন্য।

এরপর আবার ঘোষণা আসে, ওগা থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অভ্যন্তরীণ জলসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এখনো ক্ষয়ক্ষতি জানা যায়নি। তাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ব্যায়ামাগারেই আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়।

গত মার্চে উত্তর কোরিয়া জাপান সাগরে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে। এগুলো ওগা শহর থেকে ২০০ নটিক্যালের কম দূরত্বে জাপান সাগরে পড়ে। তাই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত থেকে রক্ষা পেতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মহড়া দেওয়া হচ্ছে এই স্কুলে। এটি জাপানে এ ধরনের প্রথম মহড়া।

সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের মহড়াকে সাধুবাদ জানানো হয়েছে। মুখ্য কেবিনেট কাউন্সিলর আতসুশি ওদানি বলেন, ‘সরকার অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। যেন কেউ আমাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র না ছোড়ে।’ জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কেউ যদি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, তাহলে আমাদের নিজস্ব বাহিনী তা প্রতিহত করবে।’

উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র । ফাইল ছবি: রয়টার্সজাপান ও তাদের সামরিক সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়াকে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি। টোকিও জানিয়েছে, ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ওগা উপদ্বীপ থেকে ২০০ নটিক্যালের কম দূরত্বে জাপানের পশ্চিম উপকূলে গিয়ে পড়ে।

ওগার প্রাথমিক স্কুলের অধ্যক্ষ শিন কিকুচি বলেন, এই মহড়া তাঁর শিক্ষার্থীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার কারণে এ ধরনের মহড়া চালাতে হচ্ছে। ওসামু সাইটো নামে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এখনকার দিনে যেকোনো কিছুই হতে পারে। আর আমরা যখন প্রতিবেশী দেশগুলোর আচরণ আন্দাজ করতে পারি না, তখন এ আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।’

পাঠকের মন্তব্য (১)

  • shaon

    shaon

    খুবই দুখজনক, বাচ্চাদের জন্য এমনই এক নিষ্ঠুর পৃথিবী আমরা তৈরি করে রেখেছি।
     
মন্তব্য করতে লগইন করুন