শিক্ষা     সংবাদ

এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি ২০১৭

বাংলা ১ম পত্র

মোস্তাফিজুর রহমান | ২০ মার্চ ২০১৭, ০১:০০  

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
প্রিয় পরীক্ষার্থী, আজ বাংলা ১ম পত্র বিষয় থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।

শপথ নিয়েও পলাশীর প্রান্তরে প্রধান সেনাপতি মীর জাফর যুদ্ধে অংশ নেননি। রায়দুর্লভ, উমিচাঁদ, জগেশঠ যুদ্ধে অসহযোগিতা করেছেন। মোহনলাল ও মীর মদন বিশ্বাসঘাতক হননি। নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরাজিত হয়েছেন। মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছে।
ক. ‘ইন্দ্রের ত্রাস’ বলা হয়েছে কাকে?
খ. ‘স্থাপিলা বিধুর বিধি স্থাণুর ললাটে’ উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার সঙ্গে যেদিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ—ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার আংশিক রূপায়ণমাত্র—মূল্যায়ন করো।
উত্তর-ক: ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় ‘মেঘনাদ’কে ‘ইন্দ্রের ত্রাস’ বলা হয়েছে।
উত্তর-খ: ‘স্থাপিলা বিধুর বিধি স্থাণুর ললাটে’ বলতে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশে বিধাতা চাঁদকে আকাশে নিশ্চল করেছেন, তা বোঝানো হয়েছে।
মূলত বিভীষণকে স্বীয় মর্যাদা ও লক্ষ্মণের মর্যাদার তুলনা বোঝাতে মেঘনাদ এ রকম উক্তি করেন। তাঁর মতে, বিধাতার স্থাপিত চাঁদ আকাশে নিশ্চল রূপে অবস্থান করে, তা কখনো ভূতলে গড়াগড়ি খায় না। লক্ষ্মণ যেন সেই ভূতল আর বিভীষণ চন্দ্রস্বরূপ। মেঘনাদ বিভীষণকে প্রশ্ন করেন, বিভীষণেরও কি চাঁদ হয়েও ভূতলে নেমে আসা তথা রাম-লক্ষ্মণের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা মানায়?
উত্তর-গ: উদ্দীপকটির মীর জাফর, রায়দুর্লভ, জগেশঠের শঠতা ও বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতাংশের বিভীষণের বিশ্বাসঘাতকতার যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে। ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিভীষণকে তুলে ধরেছেন একটি স্বার্থপর আত্মকেন্দ্রিক ও বিশ্বাসঘাতক চরিত্র হিসেবে। মেঘনাদ ও রাবণের সঙ্গে বিভীষণ যে বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিয়েছেন, তার যথার্থ রূপায়ণ হয়েছে উদ্দীপকের মীর জাফর, জগেশঠ প্রমুখের মাধ্যমে, যাঁদের মধ্যে জ্ঞাতিপ্রেমের পরিবর্তে স্বার্থান্বেষী মনোভাবই প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায় যে শপথ নিয়েও মীর জাফর, রায়দুর্লভ ও উমিচাঁদ যুদ্ধে অংশ না নিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্যকে অস্তমিত করেছেন। এই কবিতায় বিভীষণ রামের ভক্ত হয়ে নিজ রক্ষপুরীর সদস্যদের ধোঁকা দিয়েছেন। মেঘনাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে লক্ষ্মণকে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। লক্ষ্মণ ও রামের জয়ের জন্য নিজ জাতি আপনজনের অনিষ্ট করেছেন। তবে মেঘনাদ আপন রাজ্যের কল্যাণে দেশপ্রেমিক হিসেবে উদ্বুদ্ধ হয়েও বিশ্বাসঘাতকতার কাছে পরাজিত হয়েছেন।
এভাবেই বিশ্বাসঘাতকতার ভিত্তিতে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার সাদৃশ্য রচিত হয়।
উত্তর-ঘ: উদ্দীপকটিতে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার মেঘনাদের দেশপ্রেমিক চেতনা এবং দেশদ্রোহের বিরুদ্ধে প্রকাশিত ঘৃণা প্রতিবাদী চরিত্রের সফল প্রকাশ না ঘটায় তা কবিতাটির আংশিক রূপায়ণ করেছে মাত্র। ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতাটিতে অসীম সাহসী মেঘনাদ চরিত্রে প্রকাশ পেয়েছে স্বজাত্যপ্রেম। তিনি আপন প্রাণের বিনিময়েও চেয়েছিলেন রক্ষপুরীর বিজয়। বিভীষণের প্রতি ধিক্কার এবং জাতিসত্তার সংহতির বিষয়ে মেঘনাদের দর্শন যথার্থভাবে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এই কাব্যাংশে ফুটিয়ে তুলেছেন, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। শুধু মোহনলাল ও মীর মদনের মাধ্যমে এর আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।
‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশে মেঘনাদের মধ্য দিয়েই উন্মুক্ত হয়েছে জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব ও জাতিসত্তার সংহতির গুরুত্ব। মেঘনাদ লক্ষ্মণকে বধ করার জন্য ছিলেন উন্মুখ। তবে তাঁর চাচার বিশ্বাসঘাতকতার জন্য অন্যায় যুদ্ধে নিহত হতে হয় এই দেশপ্রেমিককে। কবিতাংশটিতে ষড়যন্ত্র বিপর্যস্ত পরিবেশে মেঘনাদের মাধ্যমে সব নীচতা ও বর্বরতার প্রতি ঘৃণা, ক্ষোভ সাবলীলভাবে প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্বাসঘাতকের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক হিসেবে মেঘনাদের প্রতিক্রিয়া ছিল ব্যাপক। উদ্দীপকে বিশ্বাসঘাতক না হলেও মীর মদন ও মোহনলালের মাধ্যমে নির্বাক অনুগত রূপের প্রতিফলন ঘটেছে। তা ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশের ভাবকে যথার্থভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ।
বলা যায় যে উদ্দীপকটি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশের আংশিক রূপায়ণমাত্র।
শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা

 

পাঠকের মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন