অর্থনীতি     সংবাদ

কাল বুধবার পরিদর্শনে যাবেন অ্যাকর্ডের প্রকৌশলীরা

সাভারের লিবার্টি ফ্যাশন পরিদর্শন করবে অ্যাকর্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২১ মার্চ ২০১৭, ০০:০৪  

অবশেষে সাভারের লিবার্টি ফ্যাশন ওয়্যারস লিমিটেড নামের কারখানার বৈদ্যুতিক, অগ্নি ও ভবনের কাঠামো পরিদর্শন করতে রাজি হয়েছে ইউরোপীয় ক্রেতাদের জোট অ্যাকর্ড। কারখানা কর্তৃপক্ষকে ১৯ মার্চ ই-মেইলের মাধ্যমে অ্যাকর্ড জানিয়েছে, কাল বুধবার কারখানাটি পরিদর্শন করবে তারা।
জানা গেছে, প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে সাভারের লিবার্টি ফ্যাশন ওয়্যারস বন্ধ আছে। তার আগে কারখানাটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান টেসকোর পোশাক তৈরি করত। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পরের মাসে টেসকোর প্রকৌশলী সংস্থা মিডওয়ে কনসালট্যান্সি সার্ভিসকে (এমসিএস) দিয়ে লিবার্টির কারখানা ভবন নিরীক্ষা করায়। কারখানা পরিদর্শন করে এমসিএস প্রতিবেদন দিয়ে বলেছিল, ‘কারখানার ২ নম্বর ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। ৬০ ঘণ্টার মধ্যেই ধসে পড়বে।’ এর পরপরই টেকসোর কর্তৃপক্ষ লিবার্টি থেকে পোশাক না কেনার ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে লিবার্টির অন্য ১১ ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেয় টেসকো। তখন সেই বিদেশি ক্রেতারাও লিবার্টির ক্রয়াদেশ বাতিল করে।
টেসকো অ্যাকর্ডের সদস্য হওয়ায় লিবার্টি কর্তৃপক্ষ তাদের কারখানাটি পরিদর্শন করতে অ্যাকর্ডকে অনুরোধ জানায়। তবে এমসিএসের নিরীক্ষা প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য ধরে নিয়ে অ্যাকর্ড কর্তৃপক্ষ লিবার্টির আবেদন আমলে নেয়নি। পরে লিবার্টি কর্তৃপক্ষ আইনি লড়াইয়ে নামলে তাদের পক্ষেই রায় দেন উচ্চ আদালত।
জানতে চাইলে লিবার্টির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, শিগগিরই অ্যাকর্ডকে পরিদর্শন করতে হবে। পরিদর্শন প্রতিবেদন নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, গত বছর হাইকোর্ট রায় দেন। চলতি মার্চ মাসের শুরুর দিকে রায়ের লিখিত কপি পাওয়ার পরই অ্যাকর্ড পরিদর্শনের উদ্যোগ নেয়।
অ্যাকর্ডের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েজ ই-মেইল করে মোজাম্মেল হককে জানান, ২২ মার্চ, অর্থাৎ বুধবার কারখানাটির বৈদ্যুতিক, অগ্নি ও ভবনের কাঠামো পরিদর্শন করা হবে। সে জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আজ মঙ্গলবারের মধ্যে অ্যাকর্ডের অফিসে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
জানতে চাইলে লিবার্টির ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজ প্রস্তুত করেছি। কাল (আজ) অ্যাকর্ডের কার্যালয়ে জমা দেব।’
লিবার্টি বন্ধ হওয়ার পর তিন দফা সংবাদ সম্মেলন করেন মোজাম্মেল হক। প্রতিবারই তিনি দাবি করেন, ‘টেসকো ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে অন্যায়ভাবে কারখানাটি বন্ধ করেছে। আমার কারখানা ভবন নতুন।’ তিনি বলেন, বছরে ৩৫০ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি বন্ধ আছে। চাকরি হারিয়েছে পাঁচ হাজার শ্রমিক। ব্যাংকঋণ আটকে গেছে।

পাঠকের মন্তব্য (১)

  • Mag hannan

    Mag hannan

    আমাদের দেশ ব্যতিত অন্যঅনেক দেশেই ভবন সংক্রান্ত নিরাপত্তার অভাব আছে। ভারতেও মাঝে মাঝে ভবন ভেঙ্গে পড়ার খবর আসে। চীনেও অনুরূপ ইস্যু আছে। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া সহ অনেক দেশেই ভবনের নিরাপত্তা ১০০% নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশ অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্স যে ধরনের কাজ করে তারা কি অন্য কোন দেশে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারবে? ২০১৪ সালের পর যখন থেকে অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্স বাংলাদেশে যে পরিমান বাড়তি বিনিয়োগে এদেশের গার্মেন্টস শিল্পের মালিকদের কে করতে বাধ্য করেছে তা হিসাব করা কঠিন হবে। বিষয়টি সরকারকে ভাবতে হবে।
     
মন্তব্য করতে লগইন করুন