অর্থনীতি     সংবাদ

আয় বাড়লেও কমেছে শেয়ারের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০ মার্চ ২০১৭, ০১:৩৪  

আগের বছরের চেয়ে আয় বেড়েছে। অপরিবর্তিত রয়েছে ঘোষিত লভ্যাংশের পরিমাণও। তা সত্ত্বেও লভ্যাংশ ঘোষণার খবরে শেয়ারবাজারে উত্তরা ফিন্যান্সের শেয়ারের দাম কমেছে। এদিন প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ৪ টাকা ৩০ পয়সা বা প্রায় সোয়া ৬ শতাংশ কমে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার উত্তরা ফিন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ২০১৬ সালে সমাপ্ত আর্থিক বছরে শেয়ারধারীদের ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই খবর গতকাল রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি ২০১৬ সাল শেষে কোম্পানিটির আয়-সংক্রান্ত কিছু মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণা) বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকাশ করা হয়েছে।
কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সাল শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৬২ পয়সা। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৫ সাল শেষে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ৪ টাকা ৪১ পয়সা। সেই হিসাবে আগের বছরের চেয়ে ২০১৬ সালে উত্তরা ফিন্যান্সের ইপিএস ৫০ শতাংশ বা ২ টাকা ২১ পয়সা বেড়েছে। ২০১৫ সাল শেষে কোম্পানিটি শেয়ারধারীদের ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল, ২০১৬ সালেও একই লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়।
লভ্যাংশসহ আর্থিক মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের কারণে গতকাল উত্তরা ফিন্যান্সের শেয়ারের দামের ওপর কোনো ধরনের সীমা আরোপিত ছিল না। ফলে এদিন কোম্পানির শেয়ারের দামের নিয়ন্ত্রণহীন উত্থান-পতনের সুযোগ ছিল। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ঘোষণার পর গতকাল দিন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। ফলে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমে সর্বশেষ লেনদেন হয় ৬৫ টাকায়। যদিও দিন শেষে সমাপনী মূল্য বা ক্লোজিং প্রাইস গিয়ে দাঁড়ায় ৬৬ টাকা ১০ পয়সায়। ঢাকার শেয়ারবাজারে গতকাল দাম কমার শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে ছিল উত্তরা ফিন্যান্স।
এদিকে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ঢাকার বাজারে সূচক সামান্য কমলেও বেড়েছে লেনদেন। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৯৫ পয়েন্টে। আর লেনদেন আগের দিনের চেয়ে ১৪০ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০৪ কোটি টাকায়।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক ও লেনদেন উভয়ই বেড়েছে। এদিন সিএসইর সার্বিক সূচকটি দেড় পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৭০৭ পয়েন্টে। দিন শেষে লেনদেনের পরিমাণ সাড়ে ১৬ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ কোটি টাকায়।
মার্চেন্ট ব্যাংক আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বড় মূলধনি কোম্পানির পাশাপাশি মধ্যম পর্যায়ের মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের মূল্য সংশোধন হয়েছে। সূচকে এসব কোম্পানির প্রভাব বেশি হওয়ায় দিন শেষে সূচক ঋণাত্মক ছিল। এর বিপরীতে স্বল্প মূলধনি কোম্পানির শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে গতকাল। তবে লেনদেনে ছিল ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আধিপত্য। ডিএসইর মোট লেনদেনের প্রায় ৩৭ শতাংশই ছিল এ দুই খাতের। এর মধ্যে ব্যাংক খাতের ২০ শতাংশ আর ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক খাতের প্রায় ১৭ শতাংশ।
ডিএসইতে গতকাল লেনদেনের শীর্ষে ছিল আর্থিক খাতের কোম্পানি লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স। এদিন ঢাকার বাজারে এককভাবে কোম্পানিটির প্রায় ৩৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এ ছাড়া লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির মধ্যে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে ছিল যথাক্রমে ন্যাশনাল ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক।
ঢাকার বাজারে গতকাল মূল্যবৃদ্ধিতে ছিল আর্থিক খাতের প্রাধান্য। ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ পাঁচ কোম্পানির মধ্যে তিনটি ছিল আর্থিক খাতের কোম্পানি। এগুলো হলো প্রিমিয়ার লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এবং এফএএস বা ফাস ফিন্যান্স।
বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের খবর আসতে শুরু করেছে। এ কারণে এসব কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। তাই কিছুদিন ধরে শেয়ারবাজারে লেনদেন ও মূল্যবৃদ্ধিতে ব্যাংক এবং আর্থিক খাতের কোম্পানিগুলোর আধিপত্য আগের চেয়ে বেড়েছে।

পাঠকের মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন