অর্থনীতি     সংবাদ

পোশাকশ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ ও মুক্তির দাবি

বাংলাদেশের ১৩টি দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ

বাণিজ্য ডেস্ক | ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, ০০:১৩  

কারাগারে আটক পোশাকশ্রমিকদের মুক্তি ও মজুরি প্রদানের দাবিতে জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে গত মঙ্গলবার শ্রম অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রতিবাদ l ছবি: আইএলআরএফের সৌজন্যেপোশাকশ্রমিকদের দমন-পীড়ন বন্ধ করা এবং গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিশ্বের অন্তত ১৩টি শহরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। গ্লোবাল ইউনিয়ন ফেডারেশনস ইউএনআই এবং ইন্ডাস্ট্রিঅল চলতি সপ্তাহে এ কর্মসূচি পালন করেছে।

শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক শ্রম সংগঠন দুটি সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া শ্রমিক নেতা ও পোশাকশ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব সাজানো মামলা প্রত্যাহারের জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল লেবার রাইটস ফোরামের (আইএলআরএফ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় পোশাক খাত থেকে আসে। এই খাতে শ্রম অধিকার নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়ায় এই কর্মসূচি পালন করেছে ইউএনআই ও ইন্ডাস্ট্রিঅল।

জার্মানির বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনে গত মঙ্গলবার আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃস্থানীয় বিভিন্ন শ্রমিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। পরদিন বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রতিবাদ জানানো হয়। একই কর্মসূচি পালিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, কানাডার অটোয়া, ফ্রান্সের প্যারিস, স্পেনের মাদ্রিদ, সুইডেনের স্টকহোম, সুইজারল্যান্ডের জেনেভা, ইতালির রোম, নেদারল্যান্ডসের হেগ, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ডেনমার্কের কোপেনহেগেন ও বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির এক-তৃতীয়াংশই হয়ে থাকে এসব দেশে।

মজুরি বৃদ্ধিসহ বেশি কিছু দাবি আদায়ে গত ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আশুলিয়ার কয়েকটি কারখানার পোশাকশ্রমিকেরা ধর্মঘট শুরু করেন। একপর্যায়ে আন্দোলন আশপাশের অন্যান্য কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। তখন সরকার, মালিক ও শ্রমিকনেতা উদ্যোগ নিয়েও কোনো সমাধান করতে পারেনি। আন্দোলন থামাতে ৫৯ কারখানা বন্ধ করে দেয় বিজিএমইএ। একই সঙ্গে নয়টি মামলা করে কারখানার মালিকেরা ও পুলিশ প্রশাসন। এসব মামলায় শ্রমিকনেতাসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ছাড়া দেড় হাজারের বেশি শ্রমিক ছাঁটাই করে কয়েকটি কারখানা। চার দিন বন্ধ থাকার পর কারখানাগুলো খুলে দেওয়া হয়।

আইএলআরএফ জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমের অধিকার আদায়ের দাবি ক্রমান্বয়ে স্তিমিত হয়ে পড়ছে। ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের একটি ইউনিয়ন কার্যালয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নিতে গেলে ৯ জন শ্রমিকনেতা ও শ্রমিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার-আটক শুরু হওয়ার পর এখনো ১৮ জন কারাগারে আছেন। পুলিশের চাপে কয়েকটি নেতৃস্থানীয় শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের কার্যালয় বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। আবার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অভাবে কিছু ইউনিয়ন কার্যালয় বন্ধ রেখেছেন শ্রমিকনেতারা।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, শ্রমিকদের সংগঠন করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং পোশাকশিল্পে মজুরি নিম্ন পর্যায়ে রাখার জন্য শ্রমিকদের ওপর হয়রানি অব্যাহত রয়েছে।

ক্লিন ক্লথ ক্যাম্পেইনের স্যাম মাহের বলেন, সরকার ও বিজিএমইএ শ্রমিকদের কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে শ্রমের অধিকার ও কর্মপরিবেশকে ভয়াবহ করে তুলছে।

ইউএনআই ও ইন্ডাস্ট্রিঅলের এই কর্মসূচিতে হাজার হাজার কর্মীর স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। এই স্বাক্ষরের তালিকা এইচ অ্যান্ড এম, গ্যাপ, ইনডিট্যাক্স (জারা) ও ভিএফ করপোরেশন (দ্য নর্থ ফেইস) প্রভৃতি ক্রেতা ব্র্যান্ডের কাছে দেওয়া হবে, যাতে তারা তাদের সরবরাহকারীদের (বাংলাদেশের পোশাকশিল্প মালিক) ওপর শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের চাপ দেয়।

আইএলআরএফের নির্বাহী পরিচালক জুডি গিয়ারহার্ট বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্প শ্রমিকদের ওপর দমন-পীড়ন চলছে। পোশাকশ্রমিকদের বিরুদ্ধে মালিকদের দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

পাঠকের মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন