বাংলাদেশ     সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফর

নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক | ২১ মার্চ ২০১৭, ০২:৩১  

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিতে অগ্রগতি না হওয়ায় এবার অভিন্ন নদীগুলোর অববাহিকা ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে এ নিয়ে অগ্রগতি হতে পারে।
ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা গতকাল সোমবার পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হকের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এই আভাস দিয়েছেন। ৭ থেকে ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রস্তুতি নিয়ে এদিন পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে ঘণ্টাখানেক আলোচনা করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
শেখ হাসিনার সফরে পানিসম্পদের সহযোগিতায় অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘নদীর অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো ভাটির দেশ নদীর পানির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে কীভাবে লাভবান হতে পারে, তা নিয়ে আমরা কথা বলছি।’
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, তিস্তা নিয়ে অচলাবস্থার কারণে শেখ হাসিনার সফরকে সফল করতে বিকল্প উপায় নিয়ে ভাবছে ভারত। বিকল্পের এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, সুন্দরবনে সৃজনশীল উপায়ে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ প্রকল্প। গত রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতায় তিস্তা চুক্তি আটকে থাকায় গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকা ব্যবস্থাপনার মতো বিকল্প নিয়েও ভারতের ভাবা উচিত।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার সফরকে সফল করতে বাংলাদেশের সঙ্গে বিকল্প পরিকল্পনায় নৌপথে যাতায়াত ও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো বহুপক্ষীয় ক্ষেত্রের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যৌথ নদী কমিশনকে (জেআরসি) সক্রিয় করা এবং বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী সুন্দরবনের সুরক্ষা তিস্তার বাইরে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে।
গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালিসিসের ফেলো গবেষক উত্তম কুমার সিনহা বলেন, ‘তিস্তা নিয়ে সুরাহা যখন প্রায় কঠিন হয়ে পড়ে, চৌকস কূটনীতি অনুযায়ী আপনার ওই বিষয়ে আটকে থাকা উচিত না। ভারতের অন্য বিকল্পগুলোও খুঁজে দেখা উচিত। দুই পক্ষের অভিন্ন উদ্বেগ দূর করতে অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা একটি কার্যকর উদ্যোগ হতে পারে।’
এদিকে পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে আলোচনার পর ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার জানিয়েছেন, যোগাযোগ নেটওয়ার্কের উন্নয়নেও এবারের সফরে অগ্রগতি হবে। হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, এবারের সফরে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক অবশ্যই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে। বিশেষ করে রেল, সড়কপথ ও জ্বালানির মতো বিষয়গুলোতে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরে ভারতের সঙ্গে জ্বালানি খাতে সহযোগিতার জন্য তিনটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ১৮ এপ্রিল ঢাকায় দুই দেশের জ্বালানিসচিবদের বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন