বাংলাদেশ     সংবাদ

মিয়ানমারের কমিশনের আরও দুটি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি | ২১ মার্চ ২০১৭, ০২:০০  

মিয়ানমারের তদন্ত কমিশনের সদস্যরা গতকাল সোমবার কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা ও উখিয়ার বালুখালী অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাশিবির পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা সেখানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন।
বেলা দেড়টার দিকে মিয়ানমারের তদন্ত কমিশনের সচিব জ্য মিন্ট পের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল লেদা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাশিবিরে পৌঁছায়। সেখানে তাদের স্বাগত জানান আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কর্মকর্তারা। এরপর তারা রোহিঙ্গাশিবির পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে কমিশনের সদস্যরা আইওএম কার্যালয়ে ১০ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন।
জ্য মিন্ট পে রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা কেন এখানে (বাংলাদেশ) এসেছেন?’ জবাবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের খেয়ারিপ্রাং গ্রাম থেকে তিন মাস আগে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আছিয়া খাতুন বলেন, ‘সেখানকার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করেছে। ঘরবাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। মেয়েদের ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তাই প্রাণে বাঁচতে দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছি।’ আরেক রোহিঙ্গা নারী বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাড়িতে ঢুকে তাঁর স্বামী নুরুল আলমকে ধরে নিয়ে গেছে; এখন পর্যন্ত খবর নেই। তাঁর গ্রামের শত শত পুরুষকে ধরে নিয়ে গুম করেছে সেনারা।
ওই নারীকে থামিয়ে দিয়ে কমিশনের এক সদস্য বলেন, ‘নির্যাতনের ঘটনা বাড়িয়ে বলার দরকার নেই, যা হয়েছে তা-ই বলুন।’
রোহিঙ্গা নেতা আবদুল মতলব বলেন, নাগরিকত্ব ও শান্তিতে বসবাসের নিশ্চয়তা পেলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে।
পরে রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে জ্য মিন্ট পে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এই সমস্যার সমাধান হলে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত নেওয়া হবে।’
তদন্ত কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন অ্যং তুন থেট, থুন মিনথ, নায়েট সোয়ে, থেথ জিন, কায়েন নেগাই, নায়ান থুন, অ্যং মিনথ, মংছিং থোয়াই, শাদুল্লাহ শাহ ও মায়েন্ট হ্লাইন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) চাইলাউ মারমা, টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক মো. শফিউল আজম প্রমুখ।
লেদা শিবিরে অবস্থান করছে প্রায় ৮০ হাজার রোহিঙ্গা। এর মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার সদ্য পালিয়ে আসা।

পাঠকের মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন