শিল্প ও সাহিত্য     সংবাদ

জয়তু জুটোপিয়া

মো. সাইফুল্লাহ | ১৭ মার্চ ২০১৭, ০০:০৫  

কদিন আগেই বসেছিল ৮৯তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ড, অর্থাৎ অস্কারের আসর। সেখানে সেরা অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র ক্যাটাগরিতে পুরস্কার জিতেছে কোন ছবিটা, জানো তো?
ওয়াল্ট ডিজনির চলচ্চিত্র—জুটোপিয়া!
যারা ছবিটা দেখেছ, নিশ্চয়ই নামটা পড়তে গিয়েই চোখ-মুখ ঝলমল করে উঠেছে। আর মনে পড়ে গেছে জুডি হপস নামের ‘কিউট’ খরগোশের মুখটা। এই যা, একটা ভুল হয়ে গেল! জুডি হপস দেখতে খুব সুন্দর, কিন্তু ‘কিউট’ শব্দটায় তার আপত্তি আছে। ছোটবেলা থেকেই সে হতে চেয়েছিল দুর্ধর্ষ এক পুলিশ অফিসার।
যারা ছবিটা এখনো দেখোনি, তাদের জন্য ছোট্ট করে গল্পের পটভূমিটা বলে নিই। জুডিদের দেশে আগে কখনো কোনো খরগোশ পুলিশ হয়নি। তাতে কী? জুডির বক্তব্য, ‘আগে কেউ হয়নি তো কী হয়েছে? আমিই নাহয় প্রথম খরগোশ পুলিশ হব!’ সবাই জুডির স্বপ্ন শুনে ওকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করে। এমনকি ওর মা-বাবাও বলে, ‘তুই বরং গাজরের খামারে কাজ কর।’ কিন্তু না। জুডির এক কথা, সে পুলিশই হবে। অপরাধীদের শায়েস্তা করে গড়ে তুলবে একটা শান্তির পৃথিবী।
জুডি হপসএকদিন সত্যি সত্যিই...একাডেমিতে সবচেয়ে ভালো ফলাফল করে পুলিশের চাকরি পায় সে। বিশালদেহী গন্ডার, হাতি, রাগী মোষ, খ্যাপাটে সিংহদের সঙ্গে কাজ করতে শুরু করে ছোটখাটো সাইজের জুডি। প্রথম দিনই ওর পরিচয় হয় নিক নামের এক শিয়ালের সঙ্গে। ধীরে ধীরে...ভয়ংকর এক অভিযানে জড়িয়ের পড়ে জুডি হপস।
মজার ব্যাপার কি জানো? জুডির কিন্তু এই সিনেমার মূল চরিত্র হওয়ার কথা ছিল না। শুরুতে গল্পটা ডালপালা মেলেছিল নিককে কেন্দ্র করে। ডিজনির নিয়ম হলো, একটা সিনেমা বানানোর আগে ওরা কয়েকজন দর্শককে গল্পটা বলে। এই ‘প্রাথমিক দর্শকদের’ কেউই নিকের গল্প পছন্দ করেনি। তখন নির্মাতাদের আবারও গল্পটা নতুন করে ভাবতে হয়েছে। জুডিকে গল্পের কেন্দ্রে এনেই বাজিমাত করেছে জুটোপিয়া।
জুটোপিয়া ছবিতে ৬৪ রকমের প্রাণী দেখানো হয়েছে। ভেবো না স্টুডিওতে বসে নিজেদের ইচ্ছেমতো এদের তৈরি করেছেন অ্যানিমেটররা। কোন প্রাণীটার পশম কেমন হবে, কার গায়ে কী জামা থাকবে...এসব নিয়ে দিনের পর দিন তাঁরা গবেষণা করেছেন। এমনকি জুডির ঠোঁট কেমন হবে, চোখের রং কী হবে—এসব ঠিক করতেও সময় লেগেছে প্রায় কয়েক সপ্তাহ।
এত পরিশ্রমের পর যে ছবিটা তৈরি হয়েছে, সেটা সত্যিই অসাধারণ। যারা এখনো দেখোনি, জলদি দেখে ফেলো।

পাঠকের মন্তব্য (০)

মন্তব্য করতে লগইন করুন